দুই ডোজ কোভিড টিকা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের বিধিনিষেধ শিথিল করলো মালয়েশিয়া

টানা লকডাউনের মধ্যে এবার চলাচলে কিছুটা শিথিলতা আনলো মালয়েশিয়া সরকার। দুই ডোজ করোনার টিকা নিয়েছেন যারা তাদের জন্যই এ শিথিলতা।
রোববার (০৮ আগস্ট) দেশটির প্রধানমন্ত্রী তানশ্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন টেলিভিশন ও রেডিওতে দেয়া এক বার্তায় এ ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ১০ আগস্ট থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে ।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার পর কমপক্ষে ১৪ দিন পার করেছেন এমন সবাই ফুল ভ্যাকসিনেটেড বা টিকা সম্পন্নকারী বলে গণ্য হবেন এবং তাদের জন্য আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য ভ্রমণে শিথিলতা আনা হয়েছে। রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার ব্যাপারেও দেয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত। তবে যতটা সম্ভব রেস্টুরেন্টে কম সময় কাটানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আন্তঃজেলা ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধু ন্যাশনাল রিকভারি প্লানের- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে এমন স্থানগুলোতে যাওয়া যাবে। তবে সব ক্ষেত্রে অবশ্যই করোনার ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।
ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী ও বাবা-মায়ের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এমন স্থানীয় নাগরিকদের জন্যও আনা হয়েছে শিথিলতা। টিকা দেয়া থাকলে তাদের ক্ষেত্রে আন্তঃরাজ্য ভ্রমণে বাধা নেই। মসজিদ বা অন্যান্য উপাসনালয়গুলো এতোদিন বন্ধ থাকলেও এখন তা খোলা থাকবে এবং টিকাধারীরা সেখানে প্রার্থনা করতে পারবেন।
মালয়েশিয়ান ও মালয়েশিয়ান নয় কিন্তু স্থায়ী নাগরিকত্ব রয়েছে এবং সেকেন্ড হোমধারীরা এই ঘোষণা অনুযায়ী বিদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আসতে পারবেন। তবে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
শারীরিক দূরত্ব থাকে এমন খেলাধুলা সকাল ৬ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চালু করা হয়েছে। তবে চেঞ্জিং রুম বাধ্যতামূলক বন্ধ রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় কিছুটা হলেও স্বস্তি নেমেছে মানুষের মাঝে।
দেশটিতে করোনা নিয়ন্ত্রণে শনিবার পর্যন্ত পুরো মালয়েশিয়াজুড়ে দুই কোটি ৪০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮৮ জন মানুষকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন এক কোটি ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার ২১৫ জন (৬৪.৪ শতাংশ) এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেওয়া সম্পন্ন করেছেন ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭৩ জন (৩৬.৩ শতাংশ) মানুষ।
এদিকে দেশটিতে রোববার দুপুর পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৮৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৬০ জনের। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লাখ ৬২ হাজার ৫৪০ জন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১০ হাজার ৭৪৭ জন এবং সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ১০ লাখ ২৬ হাজার ৩৯৮ জন।